টাকার অভাবে হোটেলে কাজ করে খাব, বিষয়টি অতি লজ্জাজনক: ফেরদৌস

টাকার অভাবে হোটেলে কাজ করে খাব, বিষয়টি অতি লজ্জাজনক: ফেরদৌস

সঞ্জীবন শিকদারের পথনাটক ‘কই বলল’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নাট্যনির্মাতা অরণ্য পলাশ নির্মাণ করেন ‘গন্তব্য’ চলচ্চিত্র। ‘গন্তব্য’ নির্মাণ করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত পরিচালক অরণ্য পলাশ, দৈনিক ২৫০ টাকা হাজিরায় কাজ করছেন হোটেলে। গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদনে তোলপাড় বিনোদন অঙ্গন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস।

এরই মধ্যে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে চলচ্চিত্রটি। তবে অর্থাভাবে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দিতে পারছেন না। নিজের পেট চালাতে মিরপুরের একটি হোটেলে কাজ করছেন তিনি। ‘গন্তব্য’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে নিজের জমি, বাবার পেনশনের টাকা ও ‘ব্যবসায়িক পার্টনার’ এলিনা শাম্মির গয়না বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন অরণ্য পলাশ। তাতেও সিনেমার কাজ শেষ করতে না পেরে চড়া সুদে ঋণ নেন। প্রতি মাসে যোগ হতে থাকে ঋণের সুদ। বিষয়টি নিয়ে অরণ্য পলাশ ও এলিনা শাম্মির সম্পর্কের অবনতি হয়। পেট চালানোর জন্য দৈনিক ২৫০ টাকা হাজিরা ও তিনবেলা খাওয়ার চুক্তিতে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করছেন অরণ্য পলাশ।

এ প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক ফেরদৌস বলেন, “এই চলচ্চিত্র প্রায় দুবছর আগে শেষ করেছি। যতদূর জানি, সব কাজ শেষে চলচ্চিত্রটি সেন্সর বোর্ডের অনুমতিও পেয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি খবরে জানতে পারি, চলচ্চিত্র তৈরি করে নিঃস্ব হয়ে পরিচালক এখন হোটেলবয়। পরে জানি, সেটি আমার অভিনীত ‘গন্তব্য’ চলচ্চিত্র। জেনে চমকে উঠি। পরিচালক যদি চলচ্চিত্রের মার্কেটিংয়ের জন্য এমন কিছু করেন, সেটা হবে তাঁর ভুল। সেখানে সবার ধারণা হবে, আমরা হয়তো তাঁকে এসব শিখিয়ে দিচ্ছি। আসলে তা নয়। মূলত পরিচালক আমার কাছে আসেন দেশের বাইরে ফেস্টিভ্যালে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের কথা বলে। এই ছবিতে আমি তেমন পারিশ্রমিক নিইনি। শুটিং থেকে শুরু করে নানান ঝামেলা হয়েছিল। শেষে এসে তেমন কিছু আমি আসলে বলতে চাই না। বরং আমরা তাঁকে এই কাজটি শেষ করতে অনেক হেল্প করেছি। এমনকি পরিচালক আমার কাছে বিভিন্ন রকমের সুযোগ-সুবিধা চাইলে আমি তাঁকে চ্যানেল আই ও বিভিন্ন রকমের বিজ্ঞাপনী সংস্থার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছি। এরপর আর কিছু জানি না।”

ফেরদৌস আরো বলেন, ‘কেন তিনি (অরণ্য পলাশ) এ রকম করছেন, তা আসলে আমার জানা নেই। চলচ্চিত্রের কাজ করতে গেলে তাঁকে আটঘাট বেঁধে নামতে হয়। তিনি তা না করে কাজে নামলেন কেন? চলচ্চিত্র তো বড়লোক আর জমিদারদের কাজ। তাহলে কেন তিনি এ কাজে নামলেন? তা ছাড়া তিনি যদি আগেও অনেক কাজ করতেন, তাহলে এমন আবেগময় কথায় মানুষের কাছ থেকে নানান হেল্প পেতেন। আমার মনে হয়, তাঁর জন্য পরিচালক ও কলাকুশলীসহ চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা হেয় হচ্ছেন। আমরা চলচ্চিত্রের মানুষরা তো এমন নই। টাকার অভাবে ক্যান্টিনে কাজ করে খাব, এমন তো নয়। বিষয়টি অতি লজ্জাজনক। আমার কথা হলো—তাঁর টাকা নেই, তাহলে কেন তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে আসলেন? এ বিষয়ে আসলে আমার বলার ভাষা নেই।’

উল্লেখ্য, ‘গন্তব্য’ সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস, আইরিন, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, কাজী রাজু, আফফান মিতুলসহ অনেকে। সিনেমাটির জন্য এই শিল্পীরা নামেমাত্র পারিশ্রমিক নিয়েছেন। কেউ কেউ বিনা পারিশ্রমিকে সিনেমায় কাজ করেছেন বলেও জানা গেছে।

ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্টস করুনঃ

কমেন্টস